একসময় রাজপথের মিছিল-মিটিংয়ে সরব ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে জেল খেটেছেন, সহ্য করেছেন নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতা। দলের জন্য জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করা সেই মানুষটিই আজ মরণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে অসহায়। শরীয়তপুর সদর উপজেলার হাজরাসার এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক যুবদল নেতা মনির হোসেন মাঝি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। পরিবারের দাবি, তার চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে।
চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের শেষ সম্বল কৃষিজমিও। বর্তমানে অর্থের অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তার চিকিৎসা। মনির হোসেন মাঝি নব্বইয়ের দশক থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন বলে জানান তার স্বজন ও স্থানীয়রা।
তবে ২০২৩ সালে তার জীবনে নেমে আসে এক বড় শোক। ফরিদপুরে বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে থাকার সময় তার স্ত্রী স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে ওই বছরই মারা যান তার স্ত্রী। প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারানোর সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০২৪ সালে তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এখন তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। দৃষ্টিশক্তিও অনেকটাই ঝাপসা হয়ে এসেছে। সামনে কেউ দাঁড়ালেও অনেক সময় তাকে চিনতে পারেন না একসময়ের এই মাঠকাঁপানো রাজনৈতিক নেতা।
মনির হোসেনের বড় ছেলে তাজিম স্নাতকোত্তরে পড়ছেন, আর ছোট মেয়ে পড়ছে নবম শ্রেণিতে। বাবার চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয় ও সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তাদের সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাজিম বলেন, বাবার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় হয়ে গেছে। এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। তাই বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সামর্থ্যবান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান তিনি।
পরিবারের আকুতি—অর্থের অভাবে যেন একজন নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মীর চিকিৎসা থেমে না যায়। উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পেলে মনির হোসেন আবার সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেন—এমন আশাই করছেন তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দলের জন্য দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা এই নেতার দুর্দিনে রাজনৈতিক সহকর্মী, সরকার এবং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষগুলো পাশে দাঁড়াবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
Leave a Reply