কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী হেলিপ্যাডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
হেলিকপ্টার অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মাতারবাড়ীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, বর্তমান অবস্থা, পরিচালনাগত বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন।
মাতারবাড়ীতে রয়েছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাশাপাশি উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ চলছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন, শিল্পায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় জাহাজে সরাসরি পণ্য পরিবহন, বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই গভীর সমুদ্রবন্দর। একই সঙ্গে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে মহেশখালী ও কক্সবাজারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মাতারবাড়ী ও মহেশখালীতে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাদের প্রত্যাশা, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে এবং প্রকল্পগুলোর সুফল স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হবে।
স্থানীয়দের অন্যতম দাবি—বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশনসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি, বিদ্যমান অবকাঠামো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক, প্রকল্প এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে উন্নয়নের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশাও এখন আরও বেড়েছে। তাদের আশা, এসব মেগা প্রকল্পের সমন্বিত বিকাশে মাতারবাড়ী ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হবে।
Leave a Reply