ময়মনসিংহে প্রেমিকার বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রাকিব নামে এক তরুণ। মৃত্যুর আগে দেওয়া তার দুটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, একই বিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাবিয়া নামে এক তরুণীর সঙ্গে রাকিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গেলেও প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। সম্প্রতি মাবিয়ার বিয়ের খবর জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রাকিব।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তিনি ও মাবিয়া একে অপরকে ভালোবাসতেন। তবে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি এবং জোর করে মাবিয়ার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওই পোস্টে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য তরুণীর পরিবারের সদস্যদের দায়ী করেন।
আরেকটি পোস্টে রাকিব লেখেন, তিনি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে তিনি নিজের অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন এবং মরদেহ যেন ময়নাতদন্ত না করা হয়—এমন অনুরোধ জানান।
ফেসবুক পোস্ট দেখেই স্থানীয়রা রাব্বিদের আমতলা এলাকায় একটি আমগাছের সঙ্গে রাকিবের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রস্তুতের কাজ চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তরুণীর বাবা আব্দুল মান্নান সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ থাকা একটি নম্বরে যোগাযোগ করলে নিজেকে মাবিয়ার খালা পরিচয় দেওয়া এক নারী জানান, রাকিব ও মাবিয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, রাকিবের মৃত্যুর বিষয়টিও তিনি সেদিনই শুনেছেন এবং কীভাবে তার ফোন নম্বর রাকিবের কাছে গেছে, সেটিও তার জানা নেই।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টির তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply