মানুষের যাতায়াত, কৃষিকাজ ও মৎস্য আহরণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় খালটি ভরাট হয়ে প্রায় দুই দশক ধরে পানি প্রবাহ হারিয়ে মৃত জলাশয়ে পরিণত হয়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়, নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক ও মৎস্যজীবীরা।
সম্প্রতি সরকারের উদ্যোগে ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনর্খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রোপণ করা হয়েছে ৭০০টি গাছ। ফলে দীর্ঘদিনের মৃতপ্রায় খালটিতে আবারও ফিরেছে প্রাণ। খালের বুকে বইছে পানি, কোথাও চলছে নৌকা, আবার কোথাও কৃষকরা নিচ্ছেন সেচনির্ভর চাষাবাদের প্রস্তুতি। সবুজায়নের মাধ্যমে খালের দুই পাড়ও নতুন রূপে সেজে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, খালটি পুনর্খননের ফলে কৃষিকাজে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরা ও দৈনন্দিন চলাচলেও এসেছে স্বস্তি। তাদের আশা, খালে নিয়মিত পানি প্রবাহ বজায় থাকলে এলাকার কৃষি ও অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে খালগুলোর নাব্যতা একেবারে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন আরিয়াল খাঁ নদ থেকে সারা বছর পানি প্রবাহ থাকবে। ফলে আগামী কৃষি মৌসুমে গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে এবং কৃষকরা সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নূরুদ্দীন আহমেদ অপু বলেন, সরকারের খাল পুনর্খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শরীয়তপুরের বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও আরও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনজীবনের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
একসময়ের অস্তিত্ব সংকটে থাকা এই খাল আবারও সচল হওয়ায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন এ অঞ্চলের কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, এলাকার সব খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।
Leave a Reply