ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শিরোপা জিতেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছে লা রোজা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল স্পেনের। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামালের শটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত সেভে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধজুড়ে বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে স্প্যানিশরা।
প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা বলের দখলে ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে এ সময়ে মাত্র ১৭ বার বলে স্পর্শ করার সুযোগ পান। অন্যদিকে রদ্রির নেতৃত্বে স্পেনের মাঝমাঠ পুরো ম্যাচজুড়ে নিয়ন্ত্রণে ছিল।
প্রথমার্ধ শেষে স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল ৩৫ শতাংশ। সফল পাসেও ছিল বড় ব্যবধান—স্পেনের ৩১৩টির বিপরীতে আর্জেন্টিনার ১৫৫টি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রথম ৪৫ মিনিটে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ গোলকিপিংয়ে ম্যাচে টিকে থাকে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির একের পর এক পরিবর্তনও ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারেনি।
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের চাপ আরও বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ভাগে নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল হয়। তবে হতাশ হয়নি স্পেন।
অবশেষে ১০৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা এই ফরোয়ার্ড।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। এর মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি জিতল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।
এই জয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল, আর ফাইনালের নায়ক হয়ে ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে রাখলেন ফেরান তোরেস।
Leave a Reply