চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্থাপনা গ্রেট হলে তাকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে মোটর শোভাযাত্রায় গ্রেট হলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লি কিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনার মঞ্চে নিয়ে যান।
সেখানে চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তোপধ্বনির মাধ্যমে অভিবাদন জানানো হয়। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর।
মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের দালিয়ান শহরে যান এবং সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। দুই দিনের কর্মসূচি শেষে বুধবার হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। তবে এর আগে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন তিনি। সেই সময়ও ঐতিহাসিক গ্রেট হলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে একই স্থানে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা পাওয়া তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply