প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Global Times।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান প্রথম সরকারি সফরে ভারতে না গিয়ে চীন সফর করেছেন বলে কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম ও বিশ্লেষক যে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, তা অযৌক্তিক। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও চীন সফর করেছেন। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরও বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগেরই অংশ।
নিবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চীন সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চীনা গণমাধ্যমটি উল্লেখ করে, গত ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধাও দিয়েছে বেইজিং।
গ্লোবাল টাইমসের মতে, বিশ্বের অনেক দেশ চীনের উন্নয়ন সুযোগকে কাজে লাগাতে আগ্রহী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
নিবন্ধের সবচেয়ে আলোচিত অংশে ভারতীয় কিছু বিশ্লেষকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়, প্রতিবেশী কোনো দেশের নেতার প্রথম বিদেশ সফরকে ভারতের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এক ধরনের ‘দাদাগিরি’ বা ‘বড় ভাইসুলভ’ মানসিকতার প্রতিফলন।
তবে একই সঙ্গে চীন স্পষ্ট করেছে যে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পরস্পরবিরোধী নয়। বরং চীন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পে তিন দেশের যৌথ উদ্যোগ সুফল বয়ে আনতে পারে।
নিবন্ধের শেষাংশে গ্লোবাল টাইমস বলেছে, দেশ বড় হোক বা ছোট—সব দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সমানভাবে সম্মান করা উচিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
Leave a Reply