ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া টানা লড়াইয়ে দুই পক্ষের যোদ্ধাদের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও হতাহত হয়েছেন।
সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় হোদেইদা এলাকায় সংঘর্ষ সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হুথি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সংঘর্ষে তাদের অন্তত ৮৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, হুথিদের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে দুই পক্ষের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোলাবর্ষণ ও সশস্ত্র লড়াইয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, তাইজ প্রদেশের মাকবানাহ ও জাবাল হাবাশি এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১ হাজার ৭৯০টি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এমনিতেই ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছের এলাকাগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোহিত সাগর ও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সঙ্গে এর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে এই এলাকায় সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে শুধু ইয়েমেন নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, চলমান সংঘর্ষ বন্ধে রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বারবার বলে আসছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এরই মধ্যে ৩০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply