সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে পুরো দেশকে সহনশীলতার রাজনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষের মাধ্যমে নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের একটি দিন। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সহনশীলতা ও পারস্পরিক সমঝোতার গুরুত্বও উঠে আসে। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে রূপ নেওয়া উচিত নয়। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল বাড়তি প্রস্তুতি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এখন দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি যে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সংলাপের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply