1. jewelislambln78@gmail.com : জুয়েল হোসেন : জুয়েল হোসেন
  2. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  3. admin@channelgbangla.com : admin :
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে।

রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য জানতে চান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত এবং ব্যাংকভিত্তিক এর হিসাব কী।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই ছয়টি ব্যাংক হলো—অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংক।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এরপর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক পিএলসিতে রয়েছে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

অর্থাৎ, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে জনতা ব্যাংকে। শুধু জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণই ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

জাতীয় সংসদে এই তথ্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে শিল্প, ব্যবসা, কৃষি ও বিভিন্ন খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়। কিন্তু ঋণের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আদায় না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া সর্বশেষ হিসাব বলছে, ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে।

এখন বড় প্রশ্ন—এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ কীভাবে আদায় করা হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। সরকারের নীতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের চাপ কতটা কমানো সম্ভব হবে।

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্য দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বড় চিত্রটিই সামনে তুলে ধরেছে।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost