রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় সাংবাদিক আলী আসগর ইমনকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দেওয়ার ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সাংবাদিক মহলের দাবি, আলী আসগর ইমন দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, গুম, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে যে গাড়িটি ঘটনাস্থলে ছিল, সেটির পরিচয় ও চালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। গাড়িটির সামনে-পেছনে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকায় সাংবাদিক মহলের কেউ কেউ মনে করছেন, গাড়িটি সাংবাদিকদের কাছে পরিচিত হতে পারে। ফলে ঘটনাটির নেপথ্যে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানো, হয়রানি করা কিংবা তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই ঘটনাটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তেজগাঁও থানা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গাড়িটি শনাক্ত ও প্রয়োজনীয়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক আলী আসগর ইমনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন,
“সাংবাদিকের জীবন নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না। ঘটনাটি যদি নিছক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তদন্তেই তা পরিষ্কার হবে। আর যদি পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে যদি লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সাংবাদিক মহলের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে এবং সাংবাদিক আলী আসগর ইমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সাংবাদিকদের স্পষ্ট বার্তা সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা জীবননাশের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
Leave a Reply