1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

আশুলিয়ায় ৫ বছরের শিশু তাসিনকে নির্মমভাবে হত্যা, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ মোস্তাফিজার রহমান আকাশ, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পঠিত

ঢাকার আশুলিয়ায় বাসার ছাদ থেকে হাত-পা ও মুখ কস্টেপে বাঁধা অবস্থায় পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে নিহত তাসিনের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় ‘শিশু তাসিন হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘খুনিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিশুটির গলায় টেপ প্যাঁচানো, মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো এবং বস্তাবন্দি করে মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় নৃশংসতার যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।নিহত আব্দুর রহমান তাসিন জামালপুরের মেলান্দহ থানার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকত সে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় তাসিন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে গেলে নেটের নিচে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। প্রথমে শিশুটির মরদেহ দেখতে পাওয়া রিনা বেগম জানান, তিনি ওই ভবনের ছাদে হাঁস পালন করেন। সন্ধ্যায় হাঁসকে খাবার দেওয়ার সময় একটি হাঁস নেটের ওপর উঠে গেলে সেটিকে ধরতে গিয়ে নেটের নিচে সাদা বস্তাটি দেখতে পান। কাছে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ছাদে ছুটে এলে আতঙ্কে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

এদিকে তাসিন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে কীভাবে ওই ভবনের ছাদে নেওয়া হলো, কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেল, হত্যার আগে ও পরে কী ঘটেছিল এবং হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাসিন হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি শিশুকে এমন নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

তারা আরও বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারাই থাকুক, প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

পাঁচ বছরের শিশু তাসিনের মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভাদাইলের পরিবেশ। একটি নিষ্পাপ শিশুকে কে বা কারা এমন নির্মমভাবে হত্যা করল—এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাসিন হত্যার বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost