ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য—কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া—বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দুই দেশের সংঘাতের মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তেহরান ও ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় যুদ্ধবিরতির পরও সেখানে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুরোপুরি ফিরেনি। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের চাপ কমবে।
কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এদিকে দুই দেশের সংঘাত এখন সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপের দিকেও যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি এবং নতুন আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মূল উদ্দেশ্যগুলোর একটি ছিল এ বিষয়ে আলোচনার পথ তৈরি করা। কিন্তু সময়সীমা শেষ হলেও সেই আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শেষ হচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
Leave a Reply