মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এখনো বহাল রয়েছে এবং দেশটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শক্তিশালী জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো একক ঘাঁটি বা নির্দিষ্ট স্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশজুড়ে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ ও গোপন সামরিক অবকাঠামোর কারণে এই সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
মার্কিন সাময়িকী ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভারের প্রায় ৭৫ শতাংশ পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে নতুন করে কোনো সংঘাত শুরু হলে দেশটি প্রায় পূর্ণমাত্রার হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে।
একই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংসের দাবি অব্যাহত থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি সে দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তাদের মতে, প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণের পরও ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর বড় অংশ পুনরুদ্ধার করেছে। নতুন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান আবারও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনছে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশল ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সুড়ঙ্গপথ ধ্বংস করা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কেবল একটি অস্ত্রভাণ্ডার নয়, বরং দেশটির প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল ভিত্তি। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সহজ নয়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবহৃত উন্নত অস্ত্রের ঘাটতি পূরণেও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমা রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলেও ইরানকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে এখন আগের তুলনায় ভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে দেশটির সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি বিলুপ্ত বলে দাবি করা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
Leave a Reply