বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।
মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে ছোট্ট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জুবাইদা রহমানকে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকাসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
সোমবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও সংস্কৃতি সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যাবেন, যেখানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
Leave a Reply