ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, বৈরী ও সংঘাতপূর্ণ। দেশভাগের পর থেকেই কাশ্মীর সংকট, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং সিন্দু নদের পানিবণ্টন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। একাধিকবার বড় যুদ্ধেও জড়িয়েছে এই দুই প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর টানা ১৭ দিন ধরে ভয়াবহ সংঘাতে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। সেই সংঘাত নিয়েই এবার বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল। তার ভাষায়, পাকিস্তান নাকি হামলার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছিল এবং শুধু উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করে ভারত ও পাকিস্তান—দুই পক্ষকেই যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান। তার দাবি, তার মধ্যস্থতার কারণেই ভয়াবহ পারমাণবিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময় ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তবে তার হস্তক্ষেপের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতির পথে যায়।
ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাকি স্বীকার করেছিলেন যে তার ভূমিকার কারণে প্রায় ৫ কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। যদিও তিনি নিজে মনে করেন, সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারত।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং এ ধরনের সংকটে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের বৈসারান এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ৭ মে ভারত পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা সামরিক ও সাইবার হামলা চালায়।
শেষ পর্যন্ত ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আবারও ভারত–পাকিস্তান সংঘাত, পারমাণবিক ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
Leave a Reply