জামালপুরে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে এক কলেজছাত্রী, এক কিশোরী, দুই গৃহবধূ ও এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন—নাকি এর পেছনে কোনো অভিন্ন সামাজিক বা অপরাধমূলক কারণ রয়েছে? প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
জামালপুর সদর: পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন একটি ভবনের কক্ষ থেকে গৃহবধূ ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তে আসে এবং পিবিআইয়ের তদন্তে হত্যার অভিযোগে একজনের স্বীকারোক্তির খবর প্রকাশিত হয়েছে।
২৭ আগস্ট | মাদারগঞ্জ: জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়ার নিজ দোকান থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২৮ আগস্ট | মাদারগঞ্জ: চরপাকেরদহ এলাকার একটি সেচপাম্পের ঘর থেকে রূপসী নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ১৫–১৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। ২৮ আগস্ট | জামালপুর শহর: কাচারীপাড়া এলাকার ভাড়া বাসার বন্ধ কক্ষ থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় ২–৩ দিন কক্ষটি বন্ধ থাকার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে বিষয়টি জানাজানি হয়। ২৯ আগস্ট | জামালপুর সদর: নান্দিনা পূর্বপাড়ার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে শারমিন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
প্রশ্ন এখন অনেক
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন ঘটছে এসব মৃত্যু? কোনগুলো আত্মহত্যা, কোনগুলো দুর্ঘটনা আর কোনগুলো হত্যাকাণ্ড?
প্রতিটি ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
জামালপুরবাসীর প্রত্যাশা—প্রতিটি মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক, অপরাধী থাকলে তার পরিচয় বেরিয়ে আসুক এবং কোনো ঘটনাই যেন তদন্তের আড়ালে না থাকে।
Leave a Reply