বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ও মহাস্থান বন্দর এলাকাটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ততম ও পরিচিত স্থান। প্রতিদিন হাজারও মানুষের গমনাগমন, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান হাটের কেনাবেচা, মাজার জিয়ারতকারী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনায় এই এলাকা সর্বদা মুখরিত থাকে। পথচারীদের নিরাপদ পারাপার এবং মহাসড়কে যানজট মুক্ত রাখতে মহাস্থান মাজারের সন্নিকটে ত্রিমোহনী এলাকায় দৃষ্টিনন্দন নকশায় একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটি এখন স্থানীয় প্রভাবশালী পিকআপ মালিক, দোকানদার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইকদের দখলে চলে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে পথচারী ও ভারী যানবাহন চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা একটি জনাকীর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। ব্রিজের নিচের অংশে সারি সারি দোকান বসানো হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী আনারস, আখসহ নানা মৌসুমি ফলের আড়ৎ বসানো হয়েছে, এমনকি একটি অংশে বালুর স্তুপ করে রেখে নিজের মতো রাখা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩০টিরও বেশি অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। এছাড়া লোকজনের এই বিশৃঙ্খল জটলাকে কাজে লাগিয়ে ব্রিজের নিচে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনাও চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন লেনে থাকা একটি পুরনো ভবন ভেঙে সড়কটি প্রশস্ত ও কার্যক্ষম করা হয়। এতে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলের সুযোগ তৈরি হলেও ফুটওভার ব্রিজের নিচের অবৈধ দোকানপাট ও গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে নতুন করে বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে। আন্ডারপাসের এপাশ থেকে ওপাশে পার হতে গিয়ে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনগুলো চলাচলের জায়গা পাচ্ছে না। যত্রতত্র বসানো এসব দোকানের কারণে প্রায়শই চালকদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাকবিতণ্ডা ও বাকযুদ্ধ নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নকশাগত সৌন্দর্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ব্রিজের সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। পথচারীরা জানান, দখলদারিত্ব ও এলোমেলো গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ব্রিজের নিচ দিয়ে হাঁটার মতো ন্যূনতম জায়গা অবশিষ্ট থাকে না। ফলে প্রতিদিন জটলার কারনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। মহাস্থান থেকে ঢাকাগামী সবজিবাহী এক ট্রাক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত টাকা খরচ করে ব্রিজের নিচে যদি দোকানপাট আর বাজারই বানানো হয়, তাহলে আমাদের কী উপকার হলো? বাধ্য হয়ে আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আন্ডারপাসের মূল রাস্তা পার হতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, “এর আগে গত ১১ অক্টোবর মহাস্থান ফুটওভার ব্রিজ এলাকা দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। আবার যদি কেউ অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply