শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে (২৫) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের হযরত আলী খন্দকার( ৪২) নড়িয়া উপজেলার আচুরা গ্রামের মো. রাব্বি (২৮), ও ইমন খন্দকারকে (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের রাজীব খান ও হযরত আলী খন্দকারেরন সাথে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসে এর জের ধরে ভুক্তভোগীর স্বামী রাজিব আহাম্মেদ খানকে (৪৪) মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় অভিযুক্তরা। তাকে বলা হয়, আচুড়া গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে গেলে ইয়াবা কারবারিদের হাতেনাতে ধরা যাবে। রাজিব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলে। পরে তার স্ত্রীকে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং ৯৯৯ এ কল করে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ, নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাহার মিয়া এবং ভোজেশ্বর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই (নিরস্ত্র) জোবায়ের হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে মো. রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার ও ইমন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আরও ৩ থেকে ৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বাহার মিয়া বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসহ প্রচলিত আইনে মামলা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply