1. jewelislambln78@gmail.com : জুয়েল হোসেন : জুয়েল হোসেন
  2. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  3. admin@channelgbangla.com : admin :
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

র‍্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি গঠনের আইন পাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি গঠনের পথ খুলে গেল। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএনের তদন্ত ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি বিল, ২০২৬’ এবং এপিবিএনের তদন্ত ক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

নতুন এসআরবি আইনের মাধ্যমে ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র‍্যাব-সংক্রান্ত বিধান বাদ দিয়ে নতুন একটি বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২০০৪ সালে সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র‍্যাবের আইনগত কাঠামো তৈরি হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ নানা কারণে র‍্যাব সমালোচনার মুখে ছিল। এবার সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো বাতিল করে এসআরবি ও এপিবিএনের জন্য পৃথক আইন করছে।

বিলে বলা হয়েছে, পুলিশের অধীনে এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা হবে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।

এসআরবির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে। সদস্যদের পদমর্যাদা কাঠামো, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্ত বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইউনিটটির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, র‍্যাবের বিদ্যমান জনবল, আদেশ, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের পাশাপাশি তাদের সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, ব্যাংক স্থিতি, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, র‍্যাব বিলুপ্ত হলেও এর জনবল ও বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় সম্পদের একটি বড় অংশ নতুন এসআরবি কাঠামোর অধীনে যাবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং সম্পত্তি জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আটক রাখার স্থান, গুদাম ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।

ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তারা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং চূড়ান্তভাবে পাসের আগে আরও জনমত নেওয়ার দাবি করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র‍্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির একটি অঙ্গীকার। বিল পাসে বিলম্ব হলে বিদ্যমান র‍্যাব কাঠামোই চালু রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং জনমত নেওয়ার জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাবের বিদ্যমান সম্পদ ও সরঞ্জাম রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। নতুন এসআরবি গঠনের পর প্রয়োজনীয় এসব সম্পদ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলে সরকারকে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে হবে না।

এসআরবি বিল পাসের পর সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস—এপিবিএন বিল, ২০২৬’ও পাস হয়। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

নতুন আইনে পুলিশের অধীনে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন থাকবে।

এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এপিবিএন কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে।

তবে এপিবিএনের সদস্যদের গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে বা প্রকাশে সহায়তা করতে পারবেন না।

বিল দুটি নিয়ে বিরোধী দলের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

ফলে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাবের বর্তমান কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আর এপিবিএনের হাতে যুক্ত হবে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের বিস্তৃত ক্ষমতা।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost