হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে কর্মরতদের। এতে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মাধবপুর উপজেলায় মোট পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এগুলো হলো—মননতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এসব অফিসের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
মননতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে চারজন কর্মরত রয়েছেন। এ অফিসের আওতায় রয়েছে ৯৯টি মৌজা। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্বও রয়েছে। ফলে জনবল সংকটের কারণে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও ছয়টি পদের মধ্যে চারটি পদই শূন্য। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন জানান, এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমিসংক্রান্ত কাজের পরিমাণ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না।
এদিকে মাধবপুর সদর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুটি করে পদ শূন্য রয়েছে। আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত রয়েছেন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই কর্মকর্তারা রাত পর্যন্ত কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন। শিগগিরই এ সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না হলে ই-নামজারিসহ ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply