দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিএনপির ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পর সংসদে উপস্থিত হন তিনি। পরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। বক্তব্যের একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই সংসদ সদস্য।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে দাঁড়িয়ে নয়, বসেই বক্তব্য দেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে আবার কথা বলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য আনন্দ, গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। তবে তার চিকিৎসা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। চিকিৎসার মাঝপথে সংসদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা থেকেই তিনি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, ২০০৬ সালের পর আবার জাতীয় সংসদের এই কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর সংসদে ফিরে আসার দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় দিন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সংসদের বর্তমান যাত্রা শুরুর পর গত ১১ মার্চ গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারেননি।
অসুস্থতার সময়ে যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, অসুস্থতার সময়ে তারা নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।
স্পিকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থ অবস্থায় স্পিকার নিজে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। সে সময় অচেতন থাকায় স্পিকারের সঙ্গে দেখা হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন।
সংসদে ফিরে মির্জা আব্বাস বলেন, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্যের বিষয় নয়; রাজনীতি মানুষের জন্য। আর সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের স্থান।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। সুস্থতা ও শক্তি পেলে জীবনের অবশিষ্ট সময় দেশের মানুষ ও নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের জন্য নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান তিনি।
দীর্ঘদিন পর সংসদে ফিরে তিনি বলেন—তিনি ফিরে এসেছেন মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে।
Leave a Reply