রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও ঘটনাপরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে আসামিদের প্রকাশ্যে আনা, ক্রাইমসিনের নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এক আসামির পরনের শার্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ময়নাতদন্তের আগেই পুলিশের দেওয়া বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়। পরে ক্রাইমসিন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ছাদে পানি ঢেলে আলামত নষ্টের অভিযোগ ওঠে।
বুধবার রাতে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে ভুলবশত মোটরের সুইচ চালু হয়ে যায়। এতে ছাদে পানি পড়ে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি লাইট ও পানির মোটরের সুইচ একই জায়গায় কি না।
রংপুর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, দায়িত্বরত সদস্যরা জায়গাটি ভালোভাবে চিনতেন না। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ার পর পানি পড়তে দেখে সেটি বন্ধ করা হয়। এতে কোনো ষড়যন্ত্র নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাসের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদ থেকে পানি পড়তে দেখে তিনি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানান। তার দাবি, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেন এবং পরে তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়।
পরে রাতের দিকে পাশের একটি বাড়ির ছাদ থেকে ঘটনাস্থলের ছাদটি ভেজা দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইমসিনে পানি পড়ায় সম্ভাব্য আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২২ আগস্ট রংপুরের মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর দায়ের করা মামলায় প্রতিবেশী মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন, আসামিদের প্রকাশ্যে আনা এবং ক্রাইমসিনের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কসহ একের পর এক ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। চার খুনের মতো আলোচিত মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে পরিচালনা এবং আলামত সংরক্ষণ নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
Leave a Reply