মঙ্গলবার দিনগত রাত ১টার দিকে তাদের গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই (নি:) শুভ্র সাহা’র নেতৃত্বাধীন টিম। ঘাতকদের নিয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। এ সময় চাপাতি, চাকু, রড, টুকরা করার (খাইট্রা), রক্তমাখা বিছানার চাদর, ভিক্টটিমের পরনের পাঞ্জাবি, পায়জামা উদ্ধার করে।
সহকারী পুলিশ সুপার, ত্রিশাল সার্কেল এস এম হাসান ইসরাফিল জানান, গত মাসের ২৭ জুলাই ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি জিডি হয়। জিডির পর থেকে আমরা তদন্তে নেমেছি। ২ আগস্ট রায়হানের বাড়ির পাশে পরিত্যাক্ত পুকর থেকে ৩টি ট্রাভেল (কাপড়ের) ব্যাগ ও ১টি বিছানার চাদরে মুড়ানো ১৫টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে ঘা ঢাকা দেন বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও জিতুল। সন্দেহভাজন এ দুজনকে খুঁজতে থাকে পুলিশ।
গত ৫ আগস্ট মামলা হলে আমাদের কাছে পরিষ্কার হওয়ার পর থেকে টানা প্রায় ২১ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। এর মধ্যে আসামিদের ঢাকা, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ২১ তারিখে তাদের শ্রীমঙ্গলে অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই।
২২ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুভ্র সাহা সহ তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেন। টানা চার দিনের অভিযানের পর তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের আলামত উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে। প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ডের পেছনে টাকা-পয়সার লোভ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে নিহতের স্বজনেরা থানায় এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা ভাই হত্যার বিচার দাবী করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই (নি:) শুভ্র সাহা বলেন, প্রায় ১মাস যাবত তাদের পেছনে লেগে আছি। তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল।
তবে সবশেষ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আমরা হোটেলে উঠেছিলাম সেই হোটেলে তারা কাজ (চাকুরী) নিয়েছিল। আমরা হোটেলেও তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত হয়েছি তারা আগামীকাল বুধবার কাজে যোগদান দেওয়ার কথা। পরে তাদের অবস্থান রেল স্টেশনে নিশ্চিত হয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।
Leave a Reply