গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য সংকট এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে লাখো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। টানা তিন দিন পানিবন্দি থাকলেও অনেক দুর্গত পরিবার শুরুতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় এলে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করে।
জেলা প্রশাসনের অনুরোধে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বন্যাকবলিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা অনুসন্ধান, উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
নৌকার মাধ্যমে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় চাল, চিড়া, মুড়ি, বিশুদ্ধ পানিসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অনেক এলাকায় নৌকাই এখন মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি হয়ে থাকা অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছিল। সেনাবাহিনীর ত্রাণ কার্যক্রমে তারা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। উদ্ধার, চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবীদেরও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply