টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শুধু এই দুই উপজেলাতেই সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট। অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তারা আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৭৬টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা ভবন ও থানাতেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন।
Leave a Reply