২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে হেরে আকস্মিকভাবে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশটির ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। আর সেই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই ব্যর্থতাকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেন এবং আনচেলত্তিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
রোমারিও বলেন, তিনি যদি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতেন, তাহলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ড্রেসিংরুমে গিয়ে আনচেলত্তির চুক্তি বাতিল করে তাকে বিদায় জানাতেন। তার ভাষায়, এমন ব্যর্থতার পর কোচকে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
শুধু ফল নয়, ম্যাচে আনচেলত্তির কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। বিশেষ করে ব্রুনো গিমারায়েসকে তুলে নেওয়া, রক্ষণভাগের সংকটে এডারসনকে রাইটব্যাক হিসেবে খেলানো, এবং স্বীকৃত ফুলব্যাক ছাড়া দল সাজানোর সিদ্ধান্তকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
রোমারিও আরও বলেন, অতীতে দুঙ্গা, লুইজ ফেলিপে স্কোলারি ও তিতে-র মতো কোচদের সময়েও ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হয়েছে। তাই একজন বিদেশি কোচ হিসেবে আনচেলত্তিও ব্যতিক্রম হতে পারেন না। তার মতে, এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ব্রাজিল দলের ডাগআউটে তার থাকা উচিত নয়।
নরওয়ের বিপক্ষে হেরে ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন, অর্থাৎ ‘হেক্সা মিশন’, ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির ফুটবল মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে রোমারিওর বিস্ফোরক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এই সমালোচনার পর আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
Leave a Reply