উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পারমাণবিক শক্তিকে গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াকেন্দ্রিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম ও দায়িত্বও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের এক বর্ধিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া-সংক্রান্ত অভিযানের দায়িত্বে থাকা জেনারেল রিকনেসান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংস্থাটির সামরিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেসিএনএ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সংলাপ ও সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিলেও পিয়ংইয়ং তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, পিয়ংইয়ং এখন দুই কোরিয়াকে দুটি বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করছে। এতে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
Leave a Reply