চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যেন রেকর্ড ভাঙাই নিয়মে পরিণত করেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গোল করে একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই ফরাসি তারকা। ম্যাচের শুরুতে একটি পেনাল্টি মিস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত এক গোলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পেনাল্টি ছাড়া সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন এমবাপ্পে। বর্তমানে দুজনেরই পেনাল্টি ছাড়া গোলের সংখ্যা ১৭টি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল।
রেকর্ড গড়ার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই। সেনেগালের বিপক্ষে গোল করে এমবাপ্পে অলিভিয়ে জিরুকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪-এ, যেখানে জিরুর গোল ৫৭টি।
একই ম্যাচে তিনি ভেঙে দেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে জ্যঁ ফন্তেইনের করা ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ড। চলতি আসরে ধারাবাহিক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২০-এ উন্নীত করেছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
নকআউট পর্বেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এমবাপ্পে। সুইডেন, প্যারাগুয়ে এবং সর্বশেষ মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ১২। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো ও লিওনিদাসের রেকর্ড ছাড়িয়ে নকআউট পর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন।
শুধু গোল নয়, সতীর্থদের দিয়েও গোল করাচ্ছেন এমবাপ্পে। মরক্কোর বিপক্ষে উসমান দেম্বেলের গোলে অ্যাসিস্ট করে তিনি ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি সরাসরি গোলে অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্টের পর, ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি।
এছাড়া দেশের হয়ে বিশ্বকাপে ২০টি ম্যাচ খেলে সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হুগো লরিসের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। আগামী সেমিফাইনালে মাঠে নামলেই তিনি এককভাবে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার হওয়ার নতুন ইতিহাস গড়বেন।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই কিলিয়ান এমবাপ্পে যেভাবে একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন, তাতে ফুটবলবিশ্বের চোখ এখন তার দিকেই। প্রশ্ন একটাই—এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই আর কত ইতিহাস লিখবেন ফরাসি এই সুপারস্টার?
Leave a Reply