২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের বিতর্কে সরগরম ফুটবল বিশ্ব। বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ফ্রান্স ও মরক্কোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে পুরোপুরি আর্জেন্টাইন রেফারি প্যানেল নিয়োগ দেওয়ায় শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে যাওয়া এই ম্যাচে জয়ী দল উঠবে শেষ চারে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই রেফারি নিয়োগ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ফরাসি শিবিরে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মানসিকভাবে চাপে ফেলতে পারে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও।
এই বিতর্কের সূত্রপাত শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ থেকে। সেই ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ের পর তার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অভিযোগ ওঠে, কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে।
এর ঠিক কয়েক দিন পরই ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনার রেফারিদের। ফিফার ঘোষণায় জানা গেছে, ম্যাচের প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফাকুন্দো তেল্লো। সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাদে। এছাড়া চতুর্থ কর্মকর্তা দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিশ্চিয়ান নাভারো।
চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে প্রধান পাঁচজন ম্যাচ কর্মকর্তা একই দেশের। যদিও ফিফা জানিয়েছে, অভিজ্ঞতা, পারফরম্যান্স এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই রেফারি নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট অনুযায়ী ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা একই পথে রয়েছে। ফলে ফ্রান্স জয়ী হলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই আর্জেন্টাইন রেফারিদের নিয়োগ নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলছেন অনেক ফরাসি সমর্থক।
যদিও এখন পর্যন্ত ফাকুন্দো তেল্লো বা তার সহকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি ফাকুন্দো তেল্লোর জন্যও এটি একটি বড় দায়িত্ব। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স, নাকি আবারও রেফারিং সিদ্ধান্ত।
Leave a Reply