পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে ইসরাইল সরে না এলে লন্ডনে থাকা ২৭ জন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
ইসরাইলি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তবে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৭ কূটনীতিক বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ব্রিটিশ সূত্রগুলোর দাবি, ইসরাইল যদি পূর্ব জেরুজালেমের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে কর্মরত ব্রিটিশ কূটনীতিকদের স্বীকৃতি বাতিল করে, তাহলে প্রায় সমসংখ্যক ইসরাইলি কূটনীতিককে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করছে লন্ডন।
এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। কারণ দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গাজা, পশ্চিম তীর ও ইসরাইলি বসতি ইস্যুতে তাদের মতপার্থক্য বেড়েছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর গত সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেন। এর জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আসে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর। ব্রিটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স ও কানাডাও ইসরাইলি বসতি ইস্যুতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এটি তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে আলাদাভাবে কাজ করে এবং পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্ত ব্রিটিশ কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কনস্যুলেটটি বন্ধ হলে এর প্রভাব মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ কনস্যুলার সেবা, সহায়তা কার্যক্রমের তদারকি এবং পশ্চিম তীর ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহে এই মিশনের ভূমিকা রয়েছে।
কনস্যুলেটটি বন্ধ ঠেকাতে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে ইসরাইলে গোপন সফর করেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞাকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ বলে সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন।
অন্যদিকে ব্রিটেনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভের পরামর্শ, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার আইনি ক্ষমতা ইসরাইলের নেই। তার মতে, কনস্যুলেট বন্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ফিলিস্তিনিদের ওপর।
এরই মধ্যে ৮ অক্টোবর ইসরাইলি নির্দেশ অনুযায়ী ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কনস্যুলেটের সাইনবোর্ডও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তেল আবিবে ব্রিটিশ দূতাবাসের কার্যক্রম এতে বন্ধ হচ্ছে না।
এখন নজর রয়েছে, কনস্যুলেট বন্ধের পর যুক্তরাজ্য সত্যিই ইসরাইলি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে কি না। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এটি হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সংকট।
Leave a Reply