একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থানায় গিয়ে, চরম শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করে পুলিশ এক চিহ্নিত আসামিকে গ্রেফতার করছে। আর অন্যদিকে, আদালতের কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনী (কোর্ট সেল) ভেদ করে সেই আসামিকে টাকার বিনিময়ে জামিনে বের করে নিয়ে যাচ্ছে একদল প্রভাবশালী দালাল চক্র! পুলিশের রক্তঘাম ঝরানো অভিযানকে তোয়াক্কা না করে আইনের ফাঁকগলে পরিচালিত এই ওপেন সিক্রেট বাণিজ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে পুলিশকে প্রতিনিয়ত চরম বেগ পোহাতে হয়। অনেক সময় আসামিদের গ্রেফতার করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের গায়ের ঘাম পায়ে ফেলতে হয়, এমনকি হামলার শিকার হতে হয়। কিন্তু আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর পরেই দৃশ্যপট বদলে যায়।
আদালত চত্বর ও কোর্ট সেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী দালাল চক্রের হাতে চলে যায় পুরো নিয়ন্ত্রণ। একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র, জালিয়াতি এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এসব আসামিদের অতি দ্রুত জামিনে বের করে আনছে। কোর্ট সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় মোটা অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে আসামি ও তাদের স্বজনদের সাথে দালালদের সরাসরি দরদাম চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এতে একদিকে যেমন পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঝুঁকি বৃথা যাচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধীরা জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ এ কারণে আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা হারাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু মাঠপর্যায়ে আসামি গ্রেফতার করলেই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। কোর্ট সেল ও আদালত চত্বর থেকে দালাল চক্রের সমূল উৎপাটন এবং এই অপকর্মের সাথে জড়িত অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply