ঢাকার আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫০০ পুরিয়া হেরোইনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আশুলিয়ার ইয়ারপুর ও ভাদাইল এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, রোববার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর এলাকায় অভিযান চালান ডিবির এসআই আরিফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্স। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা হরিদাস বাবুল ওরফে বাবুল (৫৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে একই দিন রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিবির আরেকটি দল। এসআই মো. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে মো. ইমন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী মোসা. রুপালী (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ইমন ও রুপালী স্বামী-স্ত্রী এবং তারা আশুলিয়ার ভাদাইল উত্তরপাড়ার একই ঠিকানায় বসবাস করেন। একই অভিযানে দম্পতির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে মাদক সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন খতিয়ে দেখছেন, উদ্ধার হওয়া হেরোইন তারা নিজেরাই বিক্রির জন্য রেখেছিলেন কি না এবং এর পেছনে কোনো বড় সরবরাহকারী বা সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না। পাশাপাশি মাদকগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। অন্যদিকে ইয়ারপুর থেকে গ্রেপ্তার হরিদাস বাবুল ওরফে বাবুলের বিরুদ্ধে এর আগেও অন্যান্য ধারায় একটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ব্যক্তির কাছ থেকে এবার ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর পূর্বের মামলার সঙ্গে বর্তমান মাদক ব্যবসার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করাই নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। সে অনুযায়ী গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত ও কঠোরভাবে চলছে। যারা মাদক বিক্রি, সরবরাহ কিংবা মজুতের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহ চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিবি কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু চক্র মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply