জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়া হত্যার রহস্য দেড় বছর পর উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। এ ঘটনায় মো. কালু মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ৩৮ বছর বয়সী রাসেল মিয়া। পরদিন সকালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের দুধ হাটি এলাকায় একটি চায়ের দোকানের ভেতর বাঁশের ধন্নার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই জামালপুরের ওপর ন্যস্ত হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১১ আগস্ট আরামনগর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ আগস্ট রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং সহযোগী সোহেলসহ অন্যদের নাম প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্তে পিবিআইয়ের দাবি, রাসেল ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাসেলকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে কালুসহ কয়েকজন তাকে মারধর ও নির্যাতন করে। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে হাত-পা বেঁধে তাকে আরামনগর বাজারের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
Leave a Reply