ময়মনসিংহ রেঞ্জের জুলাই ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়, ময়মনসিংহের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রেঞ্জের অধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের প্রধানরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ডিআইজি ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট প্রপার্টি, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার সুষ্ঠু তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের সুন্দর ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দেশের স্বার্থে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ডিআইজি।
সভায় জুলাই মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত হন শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে নির্বাচিত হয় নেত্রকোনার দুর্গাপুর সার্কেল। এ বিভাগের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কার পান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান।
শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হন নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শাকের আহমেদ। শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার রাজন চন্দ্র পাল। শ্রেষ্ঠ উপপরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হন জামালপুর সদর থানার খায়রুজ্জামান এবং শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হন ফুলপুর থানার তানিমুল ইসলাম।
এ ছাড়া ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তার এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রিপন চন্দ্র সরকার ও জামালপুরের ইসলামপুর থানার এসআই দীপক চন্দ্র পালকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। ৪৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই সুকান্ত দেবনাথকেও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
সভায় রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলোর কমান্ড্যান্টসহ সিআইডি, পিবিআই ও এটিইউর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সিভিল স্টাফরাও সভায় অংশ নেন।
Leave a Reply