টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশনের পর স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী মোনিয়া রহমান মুন্নির। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার সকালে হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মুন্নি ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ীর মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়া। নিহতের মা রিনা বেগমের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিহাদ তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের পর থেকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশন করার পর এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই নির্যাতনের শিকার ছিলেন মুন্নি। এ বিষয়ে আগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। ঘটনার পর স্বামী জিহাদ ভূঁইয়া ও তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
এদিকে গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply