1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন

৪৪ বছর ধরে বন্ধ বকশীগঞ্জের উপ-কারাগার, দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত ভবন

রাশেদ মাহমুদ, ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

জামালপুরের বকশীগঞ্জে নির্মাণের চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি উপ-কারাগার। প্রায় আট বিঘা জমির ওপর নির্মিত কোটি টাকার সরকারি স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো এখন জীর্ণশীর্ণ; পাশাপাশি এলাকাটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে থাকা উপ-কারাগারের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ভেঙে গেছে দরজা-জানালা। পুরো এলাকা ঢেকে গেছে লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে। তৈরি হয়েছে অনেকটা ভূতুড়ে পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতকারীরা কারাগারের মূল ভবন ও সীমানা প্রাচীর থেকে ইট, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে। নজরদারির অভাবে কারাগারের জায়গার কিছু অংশ অবৈধ দখলেও চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২ দশমিক ৭৩ একর বা আট বিঘা জমির ওপর বকশীগঞ্জ উপ-কারাগার নির্মাণ শুরু হয়। সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আসামিদের জামালপুর জেলা কারাগারে নেওয়ার ভোগান্তি ও ঝুঁকি কমাতে বন্দিব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার ও পুকুরসহ স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও অজ্ঞাত জটিলতায় কারাগারটি আর চালু হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এটি পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকা এত বড় সরকারি জায়গা এভাবে ফেলে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার কাঠামো সংরক্ষণ করে সেখানে পার্ক, শিশু বিনোদন কেন্দ্র, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র কিংবা কৃষকদের জন্য হিমাগার নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, এরশাদ সরকারের আমলে নির্মিত স্থাপনাটির ঐতিহাসিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক কিংবা কৃষকদের সুবিধার্থে হিমাগার তৈরি করা যেতে পারে। এতে সরকারি সম্পদ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি জনগণও উপকৃত হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. কনিকা খাতুন জানান, ২০০৩ সালে স্থাপনাটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত কারাগার, মাঠ ও পুকুর জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক নির্দেশনা পাওয়া গেলে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, কারাগারের জায়গাটি বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। জনগণের সেবামূলক বা সামাজিক কোনো প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত এই সরকারি সম্পদকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost