জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এই কল রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।
আদালতে উপস্থাপিত কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন?’ জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।’ প্রসিকিউশনের দাবি, এই কথোপকথনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলন দমনে সক্রিয় হন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম আদালতে বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ছিল একটি পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী পরিচালিত অপরাধ। তার দাবি, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, সকল আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামিরা নির্দেশ, উসকানি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন, যার ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে বিচার চলছে।
Leave a Reply