রাজধানীর শেরেবাংলানগরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। উদ্বোধনের পর আয়োজিত আলোচনাসভায় একটি মুহূর্ত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হাত ধরে পাশে বসান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও এ দৃশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ইতিহাসের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষায়, এই জাদুঘর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, “এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথ শুরু হবে। যদি কখনো পথ হারিয়ে ফেলি, তবে আবার এখান থেকেই নতুন করে যাত্রা শুরু করব।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, দেশের তরুণরাই যেন এই স্মৃতির প্রকৃত লেখক হয়। তাঁদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য একেবারেই আলাদা। কারণ এখানে বহু বছরের পুরোনো ইতিহাস নয়; বরং গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট আলোকচিত্র, দলিল, ব্যক্তিগত স্মারক, ভিডিওচিত্র এবং মানুষের অনুভূতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সরাসরি সেই সময়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার জানিয়েছে, জাদুঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র, দলিল, ভিডিওচিত্র, ব্যক্তিগত স্মারক এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ এবং গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে, পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিও সংরক্ষিত থাকবে।
৫ আগস্ট জাদুঘরটি বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও ৬ আগস্ট থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
Leave a Reply