জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। আগামীকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের স্মৃতিচারণ করবেন। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনের বিজয়ের ইতিহাস তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। অনুষ্ঠানে থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনও।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও জানান, এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র, দলিল, আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায়, সে লক্ষ্যেই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, উদ্বোধনের পরদিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের স্থানই হবে না, বরং গণতন্ত্র, অধিকার এবং মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply