গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হলে তরুণদের জামায়াতের রাজনীতি ও তাদের কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে জামায়াতের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে দলটির কথিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলেও ভেতরে ইতিবাচক আলোচনা করছে এমন কিছু রাজনৈতিক শক্তি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নুর বলেন, দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অতীত অধ্যায়। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের কোনো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ নেই। তিনি সরকারের প্রতি দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যবহার করে জামায়াতপন্থীদের পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নুর। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জ্বালানি খাত এবং বিসিএস ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যেন জামায়াতই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু তরুণ রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার আগেই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁর মন্তব্য।
তিনি বলেন, জামায়াতকে যারা সমর্থন করেন, তারা জামায়াতেই রয়েছেন। তবে নতুন করে কোনো প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
বিদেশি শক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নুর বলেন, আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতকে সামনে রেখে দেশে উগ্রবাদের উত্থানের একটি বয়ান তৈরি করে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের উত্থান হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে সফল হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে ব্যর্থ করার যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি।
Leave a Reply