বগুড়ায় ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ বলছে, কার্যালয়ের টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই আসামি। নিহত আসামির নাম আসাদ (২৫)। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া এলাকার মতি মুন্সীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তিনি সারিয়াকান্দি থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত অটো- রিক্সাটি নিখোঁজ ছিল। পরে ১ জুলাই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে আসাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আসাদসহ তিনজন বগুড়া শহর থেকে আব্দুল মান্নানের অটোরিকশা ভাড়া করে সারিয়াকান্দি যান। সেখানে চালককে হত্যার পর অটোরিকশাটি নিয়ে আসাদ নওগাঁয় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
তিনি আরও জানান, রোববার সকালে নাস্তা শেষে আসাদ ডিবি কার্যালয়ের টয়লেটে যান। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় সন্দেহ হলে পুলিশ সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, নিহতের গলায় ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply