শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওয়ানিয়া গ্রামে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর পারিবারিক বিরোধের জেরে দুধভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বশুর-শাশুড়িকে অচেতন করে বসতঘরে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্বশুর মো. আলী হোসেন মুন্সী নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলদেওয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসেন মুন্সীর ছেলে মো. আল আমিন মুন্সীর সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে লাকি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় আড়াই মাস আগে আল আমিন প্রথম স্ত্রীকে রেখে প্রতিবেশী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। এ ঘটনার পর থেকেই লাকি বেগম শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে বসবাস করছিলেন এবং স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রায়ই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
থানায় অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে লাকি বেগম দুধভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শ্বশুর মো. আলী হোসেন মুন্সী ও শাশুড়িকে খাওয়ান। তারা গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে ঘরে থাকা নগদ ৬১ হাজার টাকা ও প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে নেন। পরে বসতঘরের বিভিন্ন স্থানে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার গন্ধে শ্বশুর-শাশুড়ির ঘুম ভেঙে যায়। চারদিকে আগুন জ্বলতে দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাদের উদ্ধার করেন। আগুনে বসতঘর ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানানো হলে তারা সহযোগিতা না করে উল্টো গালিগালাজ ও হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী এলিজা বেগম বলেন, “রাতের বেলা তাদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বের হয়ে দেখি, তাদের ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমার ঘরের একেবারেই পাশেই তাদের ঘর। আমার ঘরে তিনজন প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। আগুন যদি আমার ঘরেও ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় যেতাম? খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
আরেক প্রতিবেশী সূর্যবান বলেন, “চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ, আর ভেতর থেকে কান্নার শব্দ আসছে। আমরা দ্রুত তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করি। এ সময় পুত্রবধূকে আশপাশে কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি, তিনি সন্তানদের নিয়ে আগেই চলে গেছেন।”
প্রতিবেশী ও স্বজন পারভেজ মুন্সী বলেন, “আলী হোসেন মুন্সী আমার চাচা। তাদের বাসার ওয়াই-ফাই আমার মোবাইলে সংযুক্ত ছিল। হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বিষয়টি খেয়াল করি। কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ এবং ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে স্থানীয়দের নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি এবং ভেতরে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করি।”
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে বলা হয়েছে, দুধের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে শ্বশুর-শাশুড়িকে অচেতন করে ঘরে আগুন লাগিয়ে পুত্রবধূ পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply