ঢাকার সাভার উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ক্যামেরা ভাঙচুর, মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও তথ্য মুছে ফেলারও অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী দিদারুল ইসলাম ঢাকা টুডের স্টাফ রিপোর্টার। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে আহত হন বলে সহকর্মীরা জানান। দিদারুল ইসলামের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি বিচারিক সিদ্ধান্তে কথিত অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে তিনি উপজেলা পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিপরীতে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এসি, ফ্যান ও লাইট চালিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার খেলা দেখছেন সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই উপস্থিত কর্মকর্তাদের ইঙ্গিতে তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন তথ্য মুছে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া জোর করে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করানো হয় এবং ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
খবর পেয়ে সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদাসহ কয়েকজন সাংবাদিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে একপর্যায়ে দিদারুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান। পুলিশের পরামর্শে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকেই সাংবাদিককে আটকে রেখে নির্যাতনের দাবিতে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply