মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর সফলভাবে শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর এবং চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। পরে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে হোটেল শাংগ্রি-লা’তে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি দুই দিন অবস্থান করবেন।
দালিয়ানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বার্ষিক সভা, যা সামার দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত, তাতে অংশ নেবেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন তিনি।
দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। সেখানেই শুরু হবে তার সরকারি সফরের মূল পর্ব। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘সোনালি ৫০ বছর’-এ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নির্ধারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। আগামী ২৬ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়া থেকে চীন—এই সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply