বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিনে তাকে লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে পুত্রজায়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সকাল ৯টায় সেখানে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
এরপর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা পর্ব। লাল গালিচায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন এবং সম্মান গ্রহণ করেন।
সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন। একইভাবে আনোয়ার ইব্রাহিমও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের প্রবেশপথে রাখা পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে নিয়ে ভবনের পঞ্চম তলায় যান, যেখানে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের সড়কগুলো বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়। এছাড়া পুত্রজায়া মাদানী স্কয়ারেও দুই দেশের জাতীয় পতাকা সারিবদ্ধভাবে উত্তোলন করা হয়, যা সফরের আনুষ্ঠানিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করবে।
Leave a Reply