1. admin@channelgbangla.com : admin :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক দলের নয়, শান্তিকামী সব মানুষের অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ বার পঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার ছাড়া ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলুপ্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেছেন, দুই বছর পার হলেও এখনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ ভাঙে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি সব জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার দাবি করেন।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, তার ভাইয়ের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি সারা দেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা জানান, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। কঠিন সময়ে তিনি বিএনপির সহায়তা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন এবং সব শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেন, বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন আহত জুলাই যোদ্ধারাও। দুই পা হারানো শাহীন মালু, গুলিবিদ্ধ মিল্লাত হোসেন, আহত সুজন মোল্লা, আলামিন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সম্মেলনের মূলমন্ত্র ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost