পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি এক যুবক। পুলিশ ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো. সোহান ইসলাম বিজয়। পিতা মো. বশির গাজী। তিনি রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নং আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তার রোল নং- ৬৮১৫০৯৮।
জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়। পটুয়াখালী জেলায় ৩৪৪ জনের চূড়ান্ত তালিকায় তার রোল রয়েছে এবং টেলিটক থেকেও তাকে সুপারিশপ্রাপ্ত হিসেবে এসএমএস দেওয়া হয়। কিন্তু রাঙ্গাবালী উপজেলায় একমাত্র তার নিয়োগপত্র আসেনি।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরে ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও কোন সঠিক কারণ জানতে পারেননি সোহান। পরে ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, “এখানে লেখার কোন ইচ্ছে ছিল না। তারপরও লিখলাম। দেশের আইন বিভাগ ও সরকারের পলিসি কিভাবে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হনন করে তার বর্ণনা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার নামে কোন মামলা নেই, স্থায়ী ঠিকানা ও সার্টিফিকেটে কোন সমস্যা নেই, তিনি বা তার পরিবার কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়, কোন অসদুপায় অবলম্বন করেননি এবং মেডিকেল টেস্টেও কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। এর পরেও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেগেটিভ দেখিয়ে তার নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে।
সোহান লেখেন, “অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দিবো না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারবো। সব স্বপ্ন নিমিষে ভেঙে গেল।”
ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “স্যার আপনাদের হাতে বহু চাকরি প্রার্থীর জীবন মরনের চাবি। চেষ্টা করিয়েন আমার মত কোন নির্দোষ যেন শাস্তি না পায়। আমি আপনার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে বিচার না দিলেও নির্দোষের আত্মার আর্তনাদ তার দরবারে ঠিকই পৌঁছবে।”
নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে তার পরিবারের। পুনরায় তদন্ত করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply