জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির অনেক নেতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রক্ষা করার শর্তে তাদের সম্পদ ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবু হানিফ তার পোস্টে দাবি করেন, মাদারীপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তুষারের গাড়ি ব্যবহার করছেন এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।
তিনি দাবি করেন, ওই আওয়ামী লীগ নেতা ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াতের কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্যের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাতেও অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন আবু হানিফ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
আবু হানিফ আরও দাবি করেন, শুধু নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী নন, এনসিপির আরও অনেক নেতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রক্ষা করার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার বা ভোগ করছেন।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে আরও কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগপন্থী একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি দেখেছেন। এ ক্ষেত্রে সারজিস আলম ও আখতার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামলের বিষয়েও অভিযোগ করেন আবু হানিফ।
তার দাবি, শ্যামলের মূল ব্যবসা ছিল ডিশ ব্যবসা। ৫ আগস্টের পর ব্যবসা ঠিক রাখতে তিনি এনসিপির এক নেতাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন এবং কিশোরগঞ্জে এনসিপির সাংগঠনিক সব খরচ বহন করবেন—এমন শর্তে তাকে দলটিতে পদ দেওয়া হয়।
আবু হানিফের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যামলসহ তিনজনকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
তবে আবু হানিফের এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরাসরি বক্তব্য পোস্টটিতে উল্লেখ নেই।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্রের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর কেন্দ্র থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার বিনিময়ে এনসিপির কিছু নেতা তাদের রাজনৈতিকভাবে আশ্রয় দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া কিংবা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
আবু হানিফের এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
তবে এনসিপির বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু অর্থনৈতিক লেনদেন, সম্পদ ব্যবহার কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আবু হানিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলোর বিষয়ে এনসিপি কিংবা অভিযুক্ত নেতাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
Leave a Reply