নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮ জনে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নওয়ালপরাসি পূর্ব, নওয়ালপরাসি পশ্চিম ও চিতওয়ান এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, নওয়ালপরাসি পূর্ব থেকে ২২১টি এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিম থেকে ১৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গোরখায় ৪৬, নুয়াকোটে ৩৭, ধাদিংয়ে ৩৩, চিতওয়ানে ২৮ এবং রাসুয়ায় ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোরখা এলাকায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশও উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বুধবার রাসুয়ায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। পরে ভয়াবহ স্রোত ধাদিং, গোরখা, চিতওয়ান ও তানাহুনের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেবঘাটের দিকে যায়।
এদিকে তানাহুন থেকে আসা কালীগণ্ডকী নদী নারায়ণী নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় পানির প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরে নারায়ণী নদী চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি হয়ে ভারতে প্রবেশ করে, সেখানে নদীটি গণ্ডক নামে পরিচিত।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবল স্রোতে অনেক মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ভেসে গেছে। ফলে দুর্গম ও নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এখনো চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।
Leave a Reply